২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ : পরিবেশ ও পুষ্টি নিশ্চিতে ফলজ বৃক্ষায়নের প্রস্তাবনা

মতামত: পেয়ার আহম্মাদ বিপ্লব, দাগনভূঞা (ফেনী)।

 

জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও খাদ্য নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি উদ্যোগ একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটেও এই মেগা কর্মসূচির রূপরেখা এবং বরাদ্দ তুলে ধরা হয়েছে। সীমিত ভূমি ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য কেবল বৃক্ষের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে না; বরং প্রজাতি নির্বাচন, গুণগত মান এবং জনগণের পুষ্টি চাহিদার সাথে এর সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় দূরদর্শিতার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়নের একটি জাতীয় কৌশলে পরিণত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, লেবু ও উপকূলীয় অঞ্চলে নারিকেল বৃহৎ পরিসরে রোপণ করা অত্যন্ত যৌক্তিক। এসব বৃক্ষ কার্বন শোষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জন্য পুষ্টিকর ফলের টেকসই উৎস নিশ্চিত করবে। দেশের সড়কপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নদীতীর ও উপকূলীয় অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে ফলজ বৃক্ষ রোপণ করা হলে পথে-প্রান্তরে ফলের প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

উন্নত দেশগুলো ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তায় সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশও এই পথ অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিকে এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে প্রতিটি বৃক্ষ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পদে পরিণত হয়। পরিকল্পিত ফলজ বৃক্ষায়নই একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *